প্রেরণা বড়াল
মাথা খেয়ে বসে আছে ঘরের মাথা। শালা মুরোদ নেই ঘর চালানোর। দিনরাত মদ গিলে বসে আছে, মাতব্বরীর বেলায় তিনি।
আর বড় কন্যা- তিনি সকাল নয়টায় সেজেগুজে বেরোয় আর ফেরে রাত ন টায়। কি চাও - না তিনি কাপড়ের দোকানে সেল্সম্যানের কাজ করেন।মাসে ছ - হাজার টাকা কামাই। দুটাকা বেশি পেলেও তিনি কারো ঘরের কাজ করবেন না। তাতে তার মানে লাগে। সে মাথা উঁচু করে বাঁচতে চায়।আর তার মা যে লোকের ঘরে রাঁধুনির কাজ করে তাতে কিছুই যায় আসেনা । পোড়া কপাল। তা না হলে মৃদুলদার সংগে- বাবা ওর বিয়েটা দিতেই পারত। মৃদুলদা ওকে ভালবাসত । এখন এল আই সি তে কত বড় পোস্টে কাজ করে মৃদুলদা। বাবা জাত জাত করে বিয়েটা দিল না। কি না - "বামুনের মেয়ে নাপিতের ঘরে যাবে?মাথা কাটা যাবে।" ভোগান্তি কার? না-না -ও নিজে এমনটা কখনও করবে না। ভাল ছেলে হলে ও জাত দেখবে না। ছোট মেয়েটি খুব ভাল পড়াশোনায়। টিউশন পড়িয়ে ও নিজের পড়ার সমস্ত খরচ এবং ঘর চালানোর জন্যও কিছু দেয়। সংসারের সমস্ত দায়িত্ব যেন ওর মাথার উপর। মাতাল বাপটাকেও ওই সামাল দিতে পারে। ওকে বিয়ে দিলে এ সংসারের যে কি হাল হবে--। গাল বেয়ে কফোঁটা চোখের জল গড়িয়ে পড়ল বিমলার। সকাল সকাল স্বামীর মাতলামোতে মাথাটা গরম হয়েছিল। কিন্ত এখন যেন একটু খালি লাগছে।
No comments:
Post a Comment