Wednesday, 6 April 2022

পড়শী-- বহ্নিশিখা

পড়শী 
বহ্নি শিখা

ফুরুৎ ফুরুৎ চা খেতে খেতে আবীর বলল,চা-টা খুব স্বাদ অইছে।
তাকিয়ে আছে সোমা। শব্দের গভীরের শব্দ অনুরণিত হচ্ছে তার মনের কোথাও। বিপুল মোবাইলে কি যেনো দেখছে। দু'জনেই পাশের সোফায় বসা।
****
সোমা আর বিপুলের সংসারে আবিরের অবাধ যাতায়াত। দুজনই চাকুরীজীবি। 
এক সময় বিপুল আবীরকে আবিষ্কার করে। কাজের খোঁজে মফস্বল শহরে আসে আবীর। কোথাও কাজ না পেয়ে চুপচাপ বসে থাকে,চা দোকানের বেঞ্চে।  
বিপুলের অফিস ছুটির পর এখানে চা খেতে আসে। দু'দিন আবীরকে এভাবে বসে থাকতে দেখে বিপুলের কৌতুহল হলো। বলল,
আপনাকে এখানে নতুন দেখছি। দুদিন যাবৎ। চুপচাপ বসে থাকেন,আসেন,চা খাই। কোথায় বাড়ি? কি নাম? এখানে কেন আসা?
সবকিছু জেনে তাকে নিয়ে এলো বাসায়।  বলল,আমি আমার বাড়ির কাজ ধরবো। একজন বিশ্বস্ত লোক দরকার।  আপনি যদি করেন, করতে পারেন।
তারপর দীর্ঘদিন কেয়ারটেকারের কাজ করেছে আবীর । আস্তে আস্তে সে ভরসার পাত্র হয়ে যায়। সোমা আবীরকে যথেষ্ট সম্মান দিয়ে কথা বলে। 
আবীরের প্রতি তার সংসারের প্রতি বিপুল সোমা দুজনই খুব সহানুভূতিশীল। এটা খুব ভালো লাগে আবীরের। 
বউ আর চার ছেলেমেয়ে নিয়ে ছ'জনের সংসার,খুব কষ্ট হয়ে যেতো চলতে। কাজটা পেয়ে হালে পানি পেলো। 
বিপুল সোমার সংসারের পুরোনো অনেক জিনিসপত্র, কাপড়চোপড় দিয়েই আবীরের ফ্যামিলির অনেক চাহিদা পূরণ হয়ে যায়। আস্তে আস্তে অবস্থার পরিবর্তন হয়,ছেলে মেয়ে বড় হয়। কেয়ার টেকারের কাজ ছেড়ে দেয়। এভাবে দীর্ঘদিন পেরিয়ে যায়।
বিপুল সোমা রিটায়ার্ড হয়। কিন্তু আবীর, বিপুল সোমার মন বদলায় না। সেদিন বিপুলই ওকে আসতে বলেছিল। সোমা দু'পদের মাছ,ডাল,মাংস রেধে খাইয়েছে।
বিকেলে চা পর্বে তিনজনই বসে আছে। সামনে চায়ের সরঞ্জাম। সোমা রং চা ঢেলে চিনি দিয়ে নাড়ছে দুজনেই তাকিয়ে আছে সোমার হাত আর চায়ের কাপের দিকে। হঠাৎ আবীর বলল,
ফিইরা আইছে পাগলি। সোমা বলল,পাগলি কে? কার কথা বলছেন?
--আর কেডা। আপনের পড়শী। 
ওহ, আচ্ছা! গেছিলো কোথায়? 
-- ঢাকা।
কেন?
--আর কেন,কোন ধান্দায় মন চাইছে চইলা গেছে । সে আবার বাসে উঠে না,ট্রেনে গেছে, ছেড়া একটা শাড়ি পরনে। মাথায় চুল তো নাই-ই,যা আছে  আউলাঝাউলা। সাথে কোন ব্যাগ ট্যাগ নাই,মোবাইলটা আবার আছে। 
বিপুল বলল,আপনি করে জানলেন বা দেখলেন?
--আমি তখন বাজারে যাই,সকাল এগারোটা বাজে। আমার বাড়ির সামনের বড় রাস্তায় কয়েকজন লোক জড় হইয়া কথা বলতেছে। আমি আগাইয়া দেখতে গেলাম ব্যাপারটা কি। দেখলাম,রিহ্যাবের লোকের সাথে জেরা করতেছে।
তখনই ফোন দিলো,পাগলির জামাই। বলল,আবীরভাই আমি আপনার বাসার খুব কাছে দাঁড়িয়ে।
সামনে আসতে পারছি না,আমাকে দেখলেই পরিস্থিতি খারাপ হয়ে যাবে। আপনি একটু বুঝিয়ে কিছু খাইয়ে দেন,রিহ্যাবের ওরা আপনার পাশে থাকবে।
তারপর? সোমা বলল।
-- তারপর আর কি? আটকে গেলাম। বাজারে না গিয়া তারে বাড়িতে এনে গিন্নীরে বলে খাওয়া দাওয়া করাইলাম। শুইলো।
আমি ভাবতেও অবাক হইয়া যাই সে কি ভাবে চাকরি করলো এতোদিন।
বিপুল বলল,আসলে কাজ তো সে করে নাই,কাজ করে দিছে অন্য স্টাফেরা।কেউ যদি না বলেছে তার চৌদ্দগোষ্টির সবাইরে ন্যাংটো করে ফেলছে অফিসেই। ভয়ে যে যা পারছে করে দিছে। তার তো উঁচু লেভেলে খুব যাতায়াত ছিল।
হ্যাঁ, আপনের বাসায় থাকাকালীন তার সাথে পরিচয়,কথা, কাজও করে দিছি অনেক। যাইহোক। 
শতচেষ্টা করেও তাকে অ্যাসাইলামে আনা গেলো না। ঘর থেকে নড়ছেই না। বলে, আমি আর কোথাও যাবো না আবীর। আমি তোমার কাছেই থাকবো। 
আমাকে তাড়াবার চেষ্টা করো না,চিল্লাবো।

No comments:

Post a Comment

পরিবার আর স্কুল শিক্ষার ফল-- রূপো বর্মন

পরিবার আর স্কুল শিক্ষার ফল  রূপো বর্মন  একদিন সকাল দশটা নাগাদ। বছর এগারোর একটি মেয়ে ও একটি ছেলে বেশ আনন্দে হাটতে হাটতে স্কুলে যা...