অলভ্য ঘোষ
নেতা কে নিয়ে মৃতের পরিবারের কাছে গেছিলেন কেষ্ট মস্তান সাথে মিডিয়া।যতবারই মৃতের আত্মীয়-স্বজন নেতা কে তার বুকফাটা দুঃখের কথা বলতে যায়।ততবারই কেষ্ট দাবড়ানি দেয় খিচুড়ি স্কুলের মাস্টারমশাই এর মত।
-কিচ্ছু বলতে হইবেক লা।চিপ মিনিস্টার আছে লা।আমি আছি লা।কোন চিন্তা লাই।
বাড়ি পুড়িয়ে মেরে ফেলা শিশুর মা বলতে চায়;
-আমার ছেলে-ডা কে কি তোমার মুখ্যমন্ত্রী ফিরায়ে দিতে পারবে বাবু।
স্বামী খুন হয়ে যাওয়া মৃতের বউ বলতে চায়;
-খুনিডাতো প্রকাশ্য দিবালোকে।আপনার সাথে সাথে ঘুরে বেড়াচ্ছে বাবু।পুলিশ মন্ত্রী কি পারবেক আমার সোয়ামী ডার খুনিকে শাস্তি দিতে?
সান্ত্বনার জায়গায় প্রকাশ্যে মিডিয়ার সামনেই কেষ্টকে ধমকাতে দেখা যায়।
-আঃ কিচ্ছুটি বলতে হইবেক লা। আমি আছিত।
কথাটা যেন এমন শুনালো চিন্তা করিস না রাতে তোর ভাতারের অভাব আমি পূর্ণ করে দেব।
বুক ফেটে গেলেও মিডিয়ার সামনে মুখ ফোটার উপায় নেই।মা, বোন, বউ, বেটি; মা মাটি মানুষের।যাদের শিশু সন্তান, বাবা, কাকা, ভাই, বোন পুড়ে হেজে মরেছে কিংবা খুন হয়েছে বাঁধের ধারে, মাঠে, ময়দানে।
কয়দিনের মধ্যে চব্বিশটা খুন নীরব প্রশাসন।টিভি চ্যানেলের ঠাণ্ডা হিম ঘরে বসে ঠাণ্ডা পানীয়ে চুমুক দিতে দিতে পক্ষ বিপক্ষ গরম গরম বক্তৃতা দিয়ে মাতিয়ে রাখে আসর! হিসেব কষে অঙ্ক করে দেখায় অশোক না আকবর কার সময় কার সাম্রাজ্যে কত মানুষ খুন হয়েছিল।
বীরভূমের বিটি লো সাধ কি তোর মিটিল!মৃতের স্বজনের আর্তনাদ;চোখের জলও বাইরে আসার উপায় নেই।মুখ গুলো সব চিনে রাখা হবে।
-খপরের কাগজের লোকের কাছে মুখ খুলেছ-তো তোমার খপর আছেক বটে।দু'লক্ষ টাকা তো দূর গ্রামে থাকতে পারবেক লা।
লাল মাটিতে মানুষের রক্তের ছাপ বোঝার উপায় লাই।গুটিকয় মাওবাদী নকশালপন্থী যারা ছিল সব লাল থেকে সবুজ হয়ে গেছে।
-কোন প্রাণীর রক্ত সবুজ হয় গো বাবু?
পুলিশের বড় কর্তা পোঁদে রুলের গুঁতো মেরে বলল;
-কেনরে শালা ইউপিএসসি পরীক্ষায় বসবি নাকি।নিউ গিনি নামের এক প্রকার গিরগিটির রক্ত সবুজ হয় বুঝলি।
তাড়িখোর লোকটা টলতে টলতে বলল;
-তোদের পেশী ও জিহ্বাও সবুজ তাই লারে বাবু?
কাল কোটে চালান হবে। এত গুলো খুন পুলিশ তো বসে থাকতে পারে না। তাই তাড়িখানা থেকে কয়েকটা মাতাল তুলে আনা হয়েছে।কিছুত কাজ দেখাতেই হবে। পয়সা দিলে খুন ও কবুল করে নেবে।এমন নকল আসামীও ভাড়ায় পাওয়া যায়।
লাল মাটিতে মানুষের রক্তের দাগ লুকিয়ে ফেলা সহজ।
No comments:
Post a Comment