Showing posts with label প্রদীপ দে. Show all posts
Showing posts with label প্রদীপ দে. Show all posts

Wednesday, 6 April 2022

ভুতুড়ে পরকীয়া "-- প্রদীপ দে

ছোটগল্পঃ
    " ভুতুড়ে পরকীয়া "
              প্রদীপ দে ~


আমি মদন সামন্ত। একজন বেসরকারি কর্মচারী।রোজের মতোই আজ শনিবার , সকাল আটটায়, 
অফিস বেরিয়ে সামনের শনি মন্দিরে মাথা নেতিয়ে অটো ধরার জন্য এগোচ্ছি সামনেই দেখি হাবলাদা পাশের দোকানে চেল্লাচ্ছে,
-- একটা খুব মোটা আর শক্তপোক্ত দড়ি দাওতো? 

আমি ভয়ে সিঁটিয়ে গেলাম ওনাকে দেখেই - একেবারে বাঘের মুখে! তাড়াতাড়ি অটো পেয়ে বেঁচে গেলাম। মুখ লুকিয়ে দেখলাম একটা ইয়া মোটা দড়ি টেনেটুনে দেখছে হাবলাদা। খুব বাঁচা বেঁচে গেছি বাব্বা!

আসলে হয়েছি কি -- হাবলাদা লোক ভালো, ওনার স্ত্রী আরো ভালো -- আহাঃ দেখতে কি! --একেবারে যাকে বলে রূপে লক্ষ্মী আর গুনে সরস্বতী! 
নামটাও কি মিষ্টি! --মৌ!

হাবলাদার বয়স একটু বেশিই - এই ধরুন পঞ্চাশ - ফঞ্চাশ হবে আর কি। মৌ 'র ওতো বয়সই নয় একেবারে কচি যুবতী -- এই ধরুন গিয়ে মেরেকুটে বাইশ কি তেইশ হবে! আর ব্যবহার কি সুন্দর! আমাকে খুব পছন্দ করে। আমিও। সকাল বেলা আজ আবার শনিবার মিথ্যা কথা বলবো না আমরা দুজন দুজনাকে ভালোবাসি। হাবলাদাকে লুকিয়ে অনেক ফষ্টিনষ্টি করি -সিনেমা যাই। আর যাবোই না বা কেন? প্রেম করা কি অন্যায়? তা হলে পরকীয়া আইনসিদ্ধ হলো কি ভাবে?

আমারও তো ঘরে বউ আছে। তাতে কি? এক সঙ্গী  কি সব সময় ভালো লাগে? বউ মানেই তো সেই একঘেয়েমি,  খিটখিটে আর ঝগড়ঝাটি!

আর পরের বউ কতো মিষ্টি লাগে -কত আদর করে। মৌ তো কতবারই আমায় বলেছে --এই বুড়োর লোহার খাঁচা থেকে আমায় বার করে তোমার মনের খাঁচায় বন্দী করো -আমি আর পারছি না গো!--দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে যে!

যাক গে ওসব কথা থাক!- ভাবলে বুকের মধ্যেটা কেমন যেন চিনচিন করে ওঠে!-আর ভাবতে পারি না!

বাস, ট্রেন আর অটোয় করে রাত দশটায় অফিস ফেরত যখন পাড়ায় এসে নামলাম দেখি পথঘাট কেমন যেন লাগছে --কেমন আধা অন্ধকার -- কেমন সব ফাঁকা ফাঁকা। একটা থমথমে ভাব চারপাশে।

ন্যাপার মুদিখানা আধখানা খোলা। দুজন খরিদ্দার ছিল,  পিছনে দাঁড়ালাম, কিছু কেনার নামে যদি খবর পাওয়া যায়। একটা শুকনো পাউরুটির প্যাকেট তুলে নিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম -- হ্যারে ন্যাপা ব্যাপারটা কি? সব কেমন যেন ফাঁকা লাগছে?

-- ওহঃ কাকু আপনি জানেন না?

-- নারে।

-- আহাঃ বড় দুঃখের -- হাবলা আজ নিজের বউকে দড়িতে ঝুলিয়ে নিজেও ঝুলেছে -- এইমাত্র বডিদুটো পুলিশ নিয়ে গেল,  পোস্টমর্টেমের জন্য।

আমি তাড়াতাড়ি পয়সা মিটিয়ে দিলাম। অস্ফূটে মুখ দিয়ে বেরিয়ে গেল -- কেনরে?

মাথা ঘুরছে তবুও কানে এল --পরকীয়া প্রেমের ফল!

এবার বুঝলাম সকালে হাবলাদার দড়ি কেনার কারণ!

পাশের অন্ধকার গলিতে গিয়ে একটু সময় নিলাম -- ভাবছি বাড়ি যাওয়া ঠিক হবে কিনা? জানাজানি হয়ে যায়নিতো আমিই সেই খলনায়ক? আমার বউ তাহলে তো ----

হঠাৎই অন্ধকার গলির অদূরে দেখি মৌ আর হাবলা হাত ধরাধরি করে আমার দিকেই এগিয়ে আসছে। মৌ এর চোখেমুখে যেন আগুন জ্বলছে -- হাবলাদাকে  বলছে -- ওই যে হারামজাদা!
যে আমাদের সংসারটাকে নষ্ট করে দিল।

হাবলাদা তেড়ে আসছে হাতে সেই মোটা দড়ি -- মৌ তুমি ভেবো না, ওকেও শালা আজ ছাড়বোনা........
-------------------------------------------------------------------।

বিঃদ্রঃ - পরের দিন ভোরের আলো ফুটতেই পাড়ার সকলে দেখেছিল - একটা ডেডবডি -পাড়ারই অন্য একজনের ল্যাম্পপোষ্টে গলায় দড়ি সমেত ঝুলন্ত অবস্থায়। নীচে পড়ে আছে অফিসব্যাগ আর একটা পাউরুটির প্যাকেট,  সবাই চিনেছিল ওকে -- ওর নাম যে --মদন সামন্ত!
---------

***প্রদীপ কুমার দে
বিরাটী আবাসন
এল আই জি -৯
এম বি রোড
নিমতা
কোলকাতা -৭০০০৪৯
মোবাইল -৮০১৭২৬৭৬২৬

পরিবার আর স্কুল শিক্ষার ফল-- রূপো বর্মন

পরিবার আর স্কুল শিক্ষার ফল  রূপো বর্মন  একদিন সকাল দশটা নাগাদ। বছর এগারোর একটি মেয়ে ও একটি ছেলে বেশ আনন্দে হাটতে হাটতে স্কুলে যা...