Showing posts with label জয়িতা ভট্টাচার্য. Show all posts
Showing posts with label জয়িতা ভট্টাচার্য. Show all posts

Wednesday, 6 April 2022

নারী বাদ--জয়িতা ভট্টাচার্য

নারী  বাদ--
জয়িতা ভট্টাচার্য 

ফুলরেনু দেবী আজ ভীষণ ব্যস্ত।সকালে চা খেতে খেতে খবরের কাগজ উল্টেই চানঘরে।আয়নায় আপাদমস্তক দেখে হাসি খেলে যায় ঠোঁটে। তারিফ করেন নিজের দেহ সুষমা দেখে নিজেকেই।
এইজন্য রাহুল হবার পর বুকের দুধ দেননি।
সে এখন প্রবাসী।
শরীরের খাঁজে বিদেশী পারফিউম আর জামদানি শাড়ি,হাল্কা গয়না।মালতি খাবার নিয়ে আসে।টিংটিঙে রোগা,কালো,ফুলছাপ শাড়িতে রিফু।আজ তিনি খুব ব্যস্ত।বঙ্গ সমাজে ফুলরেণু নারীবাদী লেখিকা হিসেবে বিখ্যাত। নারী দিবসের অনেকগুলি অনুষ্ঠানে  আজ বক্তব্য রাখবেন।ক্লাবে যাবেন। সাদা বি-এম-ডব্লিউ মসৃণ গতিতে চলেছে। 
তিনি কখনও চাকরি করেননি।দরকার হয়নি।স্বামী বড়ো আমলা ছিলেন।সুশোভন আর তিনি একটা বাড়িতেই থাকেন দুটি ভিন্ন গ্রহের মতো বহু বছর।ফুলরেনু অন্যমনস্ক হয়ে যান।অনেক এঘর ওঘর হয়েছে শুধু সুশোভনই কেমন অচেনা রয়ে গেলো।  রাতে ফিরে দেখতে পেলেন সুশোভন বসার ঘরে,টিভি দেখছে,হাতে দামি হুইস্কি।
মাঝরাতে মালতির বেড়ার ঘর থেকে চিৎকারে তাঁর ঘুম ভেঙে গেলো।কাঁদছে পড়ে পড়ে মার খাচ্ছে মেয়েটা। বরটা বেকার,মাতাল।রাগে গনগনে ফুলরেনু  ছুটে যান মালতির ঘরে।মালতীকে আড়াল করে বকাবকি করতে থাকেন।তিরস্কার করেন লোকটিকে নিজস্ব তেজে।পুলিশকে খবর দিতে উদ্যত হন।মালতির গায়ে কালশিটে।
মাতাল ছোটু  একটু দমে যায়।পুলিশের কথা শুনে।কিন্তু, 
এতক্ষণ মালতি একটু থমকে ছিলো।পুলিশের কথায় হঠাৎ  সামনে এসে পড়ে। 
-'ইশ পুলিশে দিবে কী জন্যি আমি থাকতে অরে পুলিশে দিবে! সারা শরীরে মারের দাগ নিয়ে  মালতি জাপটে ধরে ছটুকে।
" আমার বর আমাকে মারবে বেশ করবে কার কী "।
ছোটু এখন জড়িয়ে আছে মালতীকে।বন্ধ দর্মার দরজার সামনে ফুলরেনু  কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকেন।ধীরে ধীরে ঘরে ঢোকেন মাথা নিচু করে।
কী যেন নেই তার কাছে যা ওই মূর্খ মালতির ঘরে আছে।
                  🎭

পরিবার আর স্কুল শিক্ষার ফল-- রূপো বর্মন

পরিবার আর স্কুল শিক্ষার ফল  রূপো বর্মন  একদিন সকাল দশটা নাগাদ। বছর এগারোর একটি মেয়ে ও একটি ছেলে বেশ আনন্দে হাটতে হাটতে স্কুলে যা...